আপনি কি একজন উদ্যোক্তা? অথবা প্রতিষ্ঠানের জন্য বিজনেস ডেভেলপ করে থাকেন? যেকোন প্রোডাক্ট লঞ্চ অথবা সেলস প্ল্যানিং এর আগে আপনার আপনার সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হবে তাহলে আপনার আদর্শ কাস্টমার খুজে বের করা – টার্গেট মার্কেট তৈরি করার লক্ষ্যই থাকে আদর্শ কাস্টমারের কাছে যাতে পণ্য অথবা সার্ভিসের প্রচার ভালোভাবে করা যায়।
টার্গেট মার্কেট (Target Market) কি?

টার্গেট মার্কেট বলতে বোঝানো হয়েছে, এমন এক গোষ্ঠী/ক্রেতা, যাদেরকে উদ্দেশ্য করে কোম্পানি তাদের মার্কেটিং কার্যক্রম পরিচালনা করে। সহজ বাংলায়, যাদের কাছে আপনি প্রোডাক্ট সেল করতে চান। এই টার্গেট কাস্টমারদের চাহিদা ও প্রত্যাশা অনুযায়ী এবং কোম্পানির মার্কেটিং স্ট্রাটেজি উপর ভিত্তি করে কোম্পানি কিছু মার্কেটিং অথবা সেলসের পদ্ধতি নির্ধারণ করে করে থাকে।কিভাবে বুঝবেন কারা আপনার টার্গেট মার্কেট?
-
নিজেদের প্রোডাক্ট বা সার্ভিস নিয়ে একটু ভাবুন
এই প্রোডাক্ট কাদের দরকার?
কারা এর থেকে সব থেকে বেশি বেনিফিটেড হবে?
কোন বিশেষ শ্রেণীর কাছে এর গ্রহণযোগ্যতা বেশি?
-
আপনার প্রতিপক্ষদের দিকে তাকান
খোঁজ নিয়ে দেখুন একই ইন্ডাস্ট্রিতে আপনার যারা কম্পিটিটর আছে, তাদের টার্গেট কাস্টমার কারা। অনেকগুলো কোম্পানির টার্গেট মার্কেট যাচাই করতে পারেন। দেখবেন বেশ বৈচিত্র্যপূর্ণ একটা কাস্টমার বেইজের আইডিয়া পাবেন। এর সাথে নতুন কোন ধরনের কাস্টমার টার্গেট করবেন কিনা এটাও মাথায় রাখুন।
-
মার্কেটকে কিছু ডিভিশনে ভাগ করুন
আমরা জানি মার্কেট ডিভিশন অথবা সেগমেন্টেশনের কিছু বিশেষ ফ্যাক্টর আছে। যেমন- ডেমোগ্রাফিক, জিওগ্রাফিক, বিহ্যেভিওরাল।
এই বিষয় গুলো মাথায় রেখে টার্গেট মার্কেট এর সেগমেন্টেসশন করতে পারেন-
বয়স, লিঙ্গ, আয়, অবস্থান, আচরণ, জীবনধারা, রুচি ও অন্যান্য
-
ছোট করে হলেও মার্কেট রিসার্চ করুন
শুরুতেই বিশাল একটা মার্কেট ধরে এগুনো বেশ কঠিন। আমি টার্গেট মার্কেট ছোট রাখার পরামর্শ দিব। আর এর জন্য আপনাকে মার্কেট রিসার্চ করতে হবে। সরাসরি পটেনশিয়াল কাস্টমারের সাথে একটি ইন্টারভিউ অথবা অনলাইনের গ্রুপগুলোতে সার্ভে করেও দেখতে পারেন। নিজেকে প্রশ্ন করুনঃ
কোন টার্গেট এর জন্য আপনার স্ট্রাটেজি কেমন হওয়া উচিৎ?
পটেনশিয়াল কাস্টমারদের কাছে এই প্রোডাক্ট আকর্ষণীয় করা্র জন্য মার্কেটিং কেমন হবে?
আপনার ক্যাপাসিটি কি এই মার্কেট-এর সাইজের সাথে যায়?
উদাহরনঃ নাইকির টার্গেট মার্কেট
বিজনেস টু কনজিউমার বিজনেসের জন্য একটি ভালো উদাহরণ হল নাইকি (Nike)। নাইকির Target Market হল এথলেটস, জিমন্যাস্টস আর যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন এবং তাদেরকে যারা ফলো করে সেই জীবনচর্চা কে নিজেদের আর প্রোডাক্ট তো আমরা জানিই- ট্র্যাকস্যুটস, জার্সি, প্যান্ট, স্নিকারস, কেডস, সুজ আরো বেশ কিছু এক্সেসরিজ ও ইকুইপমেন্টস।

নাইকির সেগমেন্টেশন এমনঃ
১. এথলেটসঃ
নাইকি এই সেগমেন্টে একদম শিশু থেকে শুরু করে উর্ধ্বে যত বয়সের এথলেটস আছে সবাইকে টার্গেট করে। ছোট থেকেই যারা নাইকির এক্সেসরিজ ব্যবহার করে বড় হচ্ছে, তারা বড় হয়ে হয়ে যাচ্ছে নাইকির হাই প্রফিট কাস্টমারস। বিভিন্ন বড় টুর্নামেন্টের ওয়ারড্রোব ও স্পোর্টস তারকাদের এক্সেসরিজ পার্টনার হয়ে নাইকি এই সেগমেন্টের মার্কেটিং করে থাকে।
২. রানারঃ
শুধুমাত্র পেশাগত রানার না, যারা নিজেদের ফিট রাখার জন্য নিয়মিত দৌঁড়ান তারাও এই সেগমেন্টে আছেন। সুজ, এক্সেসরিজ, সোয়েটশার্ট, সোয়েটপ্যান্টস এবং এমন কিছু প্রোডাক্টের টার্গেট মার্কেট এই সেগমেন্ট।
এভাবে আপনিও আপনার টার্গেট মার্কেটকে ভাগ করতে পারেন বিভিন্ন সেগমেন্টে। টার্গেট মার্কেট বাছাই করার একটি কার্যকর পদ্ধতি হোল বায়ার পারসোনা তৈরি করা। বায়ার পারসোনা Buyer Persona তৈরি করতে এই ব্লগটি পরতে পারেন, যার সাথে একটি ফ্রি টেম্পলেটও দেওয়া আছে আপনার ব্যবহারের জন্য।
This article is about understanding the right type of customer for your business and finding a target market for it.